বোরকা (হিজাব) পড়লে যেসব প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারেন।

বোরকা

বোরকা পড়লে আমাদের সমাজে যা ভাবে।

ঘটনাঃ ১
********
সানজানা ক্লাসে ঢুকলো ১টা নতুন ওয়েস্টার্ণ ড্রেস পরে । ক্লাসরুমের দরজা দিয়ে ঢুকতে না ঢুকতে মেয়েরা সবাই ওকে ঘিরে ধরলো …
.
“ কিরে কই থেকে কিনছিস এই josh dress টা !!”
.
“ দোস্ত তোরে যা মানাইছে না !!”
.
“ উফ জটিল !! আমিও কিনবো ।“

“ খুব স্মার্ট লাগছে তোকে !! কিন্তু এর সাথে জিন্স পড়লে আরো মানাতো ” ইত্যাদি ইত্যাদি…
.
আর ক্লাসের ছেলেরা বিভিন্ন ধরনের অদ্ভুত sound করতে লাগলো যা সাধারনত কোনো yummy food সামনে থাকলে আমরা করি !!!
.
ঘটনাঃ ২
*********
রিদওয়ানা ক্লাসে ঢুকলো বোরখা পরে । ছেলে-মেয়ে সবাই ওর দিকে থ’ হয়ে তাকিয়ে রইলো কারণ, ও এতদিন বোরখা পরতো না,আজই প্রথম পরলো !! ও বসতে যাবে তখনই প্রশ্ন এল-
.
“ তোর কী হয়েছে ?”
.
“ তোর কি বিয়ে হয়ে গেছে ?’’
.
“ কার প্ররোচনায় এটা পরলি , কেন পরলি ? ’’ ইত্যাদি ইত্যাদি…
.
পাশাপাশি রিদওয়ানা দেখতে পেল ওর friend দের (মেয়ে) কটাক্ষ হাসি আর ওর দিক থেকে ভেংচি কেটে মুখ ফিরিয়ে নেয়া , শুনতে পেল comment …
.
“ তুই তো একেবারে আফগানিস্তানের তালেবান হয়ে গেছিস!!’’
.
“ তোকে খুবই উদ্ভট লাগছে !!’’
.
“ তোকে একেবারে কিম্ভূতকিমাকার লাগছে !!’’
.
“ পরলি তো পরলি একেবারে ১টা লম্বা আলখেল্লা পরলি…শর্ট বোরখা পরলে কি হত ?’’ ইত্যাদি ইত্যাদি…
.
আর ক্লাসের ছেলেগুলো নিশ্চুপ হয়ে তাকিয়ে রইলো…
.
******

আমাদের সমাজে এই ২ টি ঘটনা আজকাল এতটাই সাধারন হয়ে গেছে যে, এটা নিয়ে ভাবার কোন অবকাশ আমাদের নেই। এই সমাজে যখন ১টা মেয়ের ওড়না বুকের উপর থেকে নেমে হাতে চলে আসে তখন আমরা তাকে “স্মার্টনেস” বলি …জিন্স-ফতুয়া না পড়লে এখন আর কোন মেয়েই “স্মার্ট” না। লুজ কামিয পরলে তো মান-ইজ্জতই থাকে না!!!!!!
.
অথচ আমাদের Creator যিনি আমাদের Create করেছেন সেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমদের কি বলছেন-
.
“(হে নবী)তুমি মুমিন নারীদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নিম্নগামী রাখে এবং নিজেদের লজ্জাস্থানমূহের হিফাযাত করে, তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে না বেড়ায়…” (সূরা নূর ৩১)
রিদওয়ানা যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার এই order টির উপর ঈমান এনে তা তার action এ expose করলো তখন যারা তাকে tease করলো তারা ultimately কাকে tease করলো ???????????
.
যেহেতু হিজাব করাটা মুসলিমদের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল না , বরং এটা Creator যার কাছে ফিরে যেতেই হবে আর প্রতিটা action এর জন্য account করতেই হবে সরাসরি তাঁর order … সেহেতু তারা তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকেই tease করলো … আল্লাহ আমাদের মাফ করুন।
.
পরিশেষে ; ‘মুসলিম’ শব্দটার অর্থই হল সেই ব্যক্তি যে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহ’র কাছে সমর্পণ বা Submit করে । আজ আমরা যারা নিজেদের মুসলিম বলে পরিচয় দেই তারা কি করে অন্য কোনো মুসলিমের আল্লাহ’র প্রতি এই submission দেখলেই তাকে tease করি ??????? এটা কি আল্লাহ’র প্রতি ধৃষ্টতা দেখানো নয়????
.
“…তোমরা যা করছো সে সম্পর্কে আল্লাহ মোটেই বেখবর নন’’ (সূরা বাকারা – ৮৫)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *